ঝড় হলেও ভিজবে না; রাত হলেও চুরি হবে না।

আমাদের সিনেমাকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন করে, আমাদের জনগণকে অন্যের সিনেমার বাজারে বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে।
আপনি ‘শুনতে কি পাও!’ কে কি বলছেন, প্রামাণ্য? নাকি ফিকশন?
প্রামাণ্য নাকি ফিকশন জঁরার, ছবিটি যারা দেখেছেন তাদের মধ্যে এই নিয়ে একটা আলোচনা আছে। আমি বরং এই দ্বন্দ্বটা উপভোগ করছি। তবে বানানোর সময় আমি স্রেফ একটা ছবি বানানোর কথা ভেবেছি, ব্যাকারণের কোন তোয়াক্কাই করিনি!
 
ছবিটা এতগুলো দেশে যাচ্ছে? কিন্তু আমাদের দর্শকরা দেখতে পাচ্ছেন না কেন?
দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এ বছরের শেষ নাগাদ দেশে ছবিটা মুক্তি দেয়ার ইচ্ছা আছে। সমস্যা হলো বিদেশে ছবি যাচ্ছে উৎসবের আমন্ত্রণে, আর দেশে ছবি দেখাতে হবে নিজের আয়োজনে।
 

নিজেদের আয়োজনে কেন?
আসলে প্রচলিত ফর্মূলা বা তারকা নির্ভর না হওয়ায় এবং প্রথাগত পরিবেশনায় ছবিটি মুক্তি দেয়া কঠিন।

পোস্টার, 'শুনতে কি পাও!'/ কামার আহমাদ সাইমন/ শিল্পী বিক্রম শুর
পোস্টার, ‘শুনতে কি পাও!’/ কামার আহমাদ সাইমন/ শিল্পী বিক্রম শুর

প্রথাগত পরিবেশনা বলতে আপনি কি বোঝাচ্ছেন?
আমাদের দেশে পরিবেশক বা প্রদর্শকরা এখনো ভাবেন যে একটা ছবি ২০টা হলে মুক্তি পাবে এবং ২ মাস চলবে, তা নইলে তাদের ব্যবসা হবে না। মাল্টিপ্লেক্সওলারা তাই শুধু হলিউডের ছবি চালাতে পছন্দ করে আর হলগুলো চায় বলিউডের ছবি। অথচ হলিউড-বলিউডেও ব্যাতিক্রম ছাড়া এখন কোন ছবি সপ্তাহের বেশি চলে না। এক দিনে একেক সময়ে একই সিনেমাহলে একেক ছবি চলে। এর ফলে একটা ছবির উপর প্রদর্শক বা পরিবেশকের চাপ কমে, দর্শকরাও ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের ছবি দেখতে পান। এমনকি এখন সেখানে ছোট দৈর্ঘ্যরে একাধিক ছবিকে একসাথে প্যাকেজ করেও হলে মুক্তি দেয়া হচ্ছে। এই সুযোগে বাণিজ্যিক ‘তারকা-নির্ভর’ ছবির পাশাপাশি ‘স্ক্রিপ্ট-নির্ভর’ ভিন্ন স্বাদের ছবি এখন ভারতে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে গেছে। পরিবেশক বা প্রদর্শকরা যদি প্রথার বাইরে গিয়ে চিন্তা না করতেন, তাহলে এই নতুন বাজার তৈরী হতো না।

আমাদের এখানে এটা হচ্ছে না কেন?
মূলত পরিবেশক, প্রদর্শকদের অনভিজ্ঞতা আর প্রতিযোগিতার অভাবের কারণে। মাল্টিপ্লেক্সওলারা একচেটিয়া চালাচ্ছেন হলিউডি ছবির দোকান। অন্যদিকে সিনেমাহলের জন্য লীজ নেয়া জমিতে অবৈধ শপিং মল বানালেই আপনি কোটিপতি, আপনাকে বলার বা দেখার কেউ নেই। আমাদের সিনেমাকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন করে, আমাদের জনগণকে অন্যের সিনেমার বাজারে বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে।
 
সেক্ষেত্রে আপনি কি ভারতীয় চলচ্চিত্র আমদানির বিপক্ষে?
কামার আহমাদ সাইমন/ ছবিঃ রিচার্ড রোজারিও
কামার আহমাদ সাইমন/ ছবিঃ রিচার্ড রোজারিও

আমি পৃথিবীর কোন দেশের ছবিরই বিপক্ষে না, বিশ্বায়নের এই যুগে ঘর বন্ধ করে বসে থাকলে দেয়াল ভেঙে সব ঢুকবে। পাইরেসি, ডাউনলোড আর চ্যানেলগুলোর মাধ্যমে এখন তাই ঢুকছে। আবার ঘরের দরজা জানালা অনেকদিন বন্ধ থাকলে ভেতরের বাতাস নষ্ট হয়ে যাবে, যেমনটা হয়েছে এফডিসির ক্ষেত্রে। কিন্তু জানালা দরজা হাট করে খুলে ঘুমালেও চোর ঢুকবে, যেমনটা ঘটেছে আমাদের ঘরে ঘরে বিদেশী চ্যানেলগুলোর মাধ্যমে। আসলে সবকিছুরই একটা নিয়ম-নীতি রেগুলেশন থাকা দরকার, দরজা-জানালার কপাটের মতো… ঝড় হলে টেনে দিবেন, ভিজবে না; রাত হলে বন্ধ করে দিবেন, চুরি হবে না।

[দৈনিক বনিক বার্তার জন্য সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন পৃথ্বী সাহা বাপ্পা]
ঝড় হলেও ভিজবে না; রাত হলেও চুরি হবে না।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s